Saturday, June 13, 2009

চীনা ভাষার কথকতা

চীনা ভাষায় বাংলাদেশকে বলা হয় 孟加拉国, ফিনিন (pinyin) mèng jiā lā guó; আর বাংলা ভাষাকে 孟加拉语, (ফিনিন mèng jiā lā yǔ)। Mèng jiā lā সম্ভবত বাঙ্গালাহ্‌ (সুলতানি) থেকে, সে সময়ের কোনও চীনা রাজবংশের আমলের অনুবাদ; আর guó অর্থ দেশ; অর্থ ভাষা। অনভ্যস্ততার কারণে অনেকের কাছেই mèng jiā lā শব্দটির উচ্চারণ খানিকটা মুনজালা-র মত ঠেকে, যদিও আসল উচ্চারণটা প্রায় (যথেষ্ট জ্ঞানের অভাবে ‘প্রায়’) /mɤ˥˩ŋtɕɑ˥˥lɑ˥˥/, প্রথম অক্ষরের স্বরটি সংবৃত-মধ্য অবর্তুল পশ্চাৎধ্বনি।

যাই হোক এই চীনা ভাষার শব্দ বাংলায় লেখা খুব কঠিন, কারণ এতে চ বা ছ ধ্বনিমূল হিসেবে দুই ধরণের, আর সহধ্বনি হিসেবে তিন ধরণের ts (z), ʈʂ (zh), tɕ (j), tsʰ (c), ʈʂʰ (ch), এবং tɕʰ (q); বন্ধনীর হরফ ফিনিনের; তৃতীয়টি দ্বিতীয়টির এবং ষষ্ঠটি পঞ্চমটির সহধ্বনি। তালিকার প্রথমটি দন্তমূলীয় ঘৃষ্টধ্বনি, তৃতীয়টি প্রতিবেষ্টিত ঘৃষ্টধ্বনি আর পঞ্চমটি দন্তমূল-তালব্য ঘৃষ্টধ্বনি। বাংলা হরফে লিখতে গেলে অসুবিধা। অগত্যা ৎস, ট্ষ এবং ট্শ় হিসেবে লিখতে হয়। তারপরেও উচ্চারণে পার্থক্য করা বাঙালির জিহ্বায় এবং কানে বেশ কঠিন। আরও একটি ব্যঞ্জনধ্বনি যার ভাষাতত্ত্বে নাম প্রতিবেষ্টিত নৈকট্যক বেশ বিপদে ফেলে — তামিল ழ এবং মলয়ালম ഴ-এর ধ্বনিটি। মাংস অর্থে চীনা শব্দ 肉 (ফিনিন ròu) /ɻou̯˥˩/-এর প্রথম ব্যঞ্জনধ্বনিটি। স্বরধ্বনির ক্ষেত্রেও কয়েকটি কঠিন উচ্চারণ দেখা যায়, বিশেষ করে বাঙালির কান এবং জিহ্বার জন্য; সংবৃত-মধ্য অবর্তুল ধ্বনি তাদের মধ্যে অন্যতম।

ম্যান্ডারিন চীনা ভাষা যা কিনা গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রধান ভাষা তাতে অক্ষর শুরু হয় ২১টি ব্যঞ্জনধ্বনির যে কোন একটি দিয়ে আর শেষ হয় ৩৫টি স্বর বা অনুনাসিক স্বরের যে কোন একটি দিয়ে। সাথে আছে সাতটি বিশেষ অক্ষর। সব মিলিয়ে ৪১৩টি অক্ষর। সাথে চারটি শ্বাসাঘাত যোগ দিলে হয় প্রায় ১,৬০০টি অক্ষর। লেখারও আছে রকম ফের। ম্যান্ডারিন চীনা ভাষায় প্রায় ২,০০০টির মত অক্ষর শিখতে হয় সাধারণ কাজ চালাতে গেলে। মোটামুটি শিক্ষিত লোক নাকি প্রায় ৫,০০০টির মত অক্ষরের সাথে পরিচিত। সর্ববৃহৎ অভিধানে আছে এক লাখেরও বেশি অক্ষর।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে সনাতনী অক্ষর বদলে সহজীকৃত অক্ষরে লেখা হয়, যদিও ম্যান্ডারিন নয় এমন চীনা ভাষা অনেকক্ষেত্রে লেখা হয় সনাতন অক্ষরে। ম্যান্ডারিন শব্দটি কিন্তু পর্তুগিজদের অবদান; মান্দারিম বা মান্দারিঁ থেকে, অর্থ সরকারি কর্মকর্তা, অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষা।

6 comments:

Tashfeen Mahmud said...

Awesome as usual! Keep the posts coming!

dibyajyoti said...

পর্তুগিজ মান্দারিম (নাকি মান্দারিঁ?) শব্দটা নাকি মালয় থেকে এসেছে, এবং মালয়ে নাকি এসেছে সংস্কৃত "মন্ত্রিন্‌" থেকে; এ বিষয়ে আপনার কিছু জানা আছে কি?

আর একটা জিনিস যা লক্ষ্য করলাম: বাংলায় "অক্ষর" কথাটা গোলমেলে - যখন আমরা কথ্য ভাষার কথা বলছি তখন এর এক মানে। আর লেখার কথা ধরলে তখন অন্য মানে। এই সমস্যাটার কি একটা সুরাহা করা যায় না?

akkas said...
This comment has been removed by the author.
akkas said...

দিব্য, অবশ্যই মান্দারিঁ (mandarim), অন্তত আধুনিক পর্তুগিজে। পুরনো পর্তুগিজের কথা জানি না। ব্যুৎপত্তির কথা আমিও তেমন পড়েছি এবং খোদ পর্তুগিজদেরই নাকি ধারণা ছিল শব্দটা মন্ত্রিণ্‌ থেকে এসেছে, অন্তত মন্ত্রিণ্ শব্দটির সাথে খানিকটা যোগাযোগ রয়েছে। পর্তুগিজে mandar অর্থ পড়েছি আদেশ করা, সে থেকে আদেশ করে এমন কর্মকর্তা। অভিধান মতে ইংরেজি mandarin, পর্তুগিজ mandarim বা ডাচ mandorijn থেকে, যা কিনা মালয় manteri বা mantri থেকে, যা কিনা সংস্কৃত মন্ত্রিণ্‌ থেকে। এবং এর গোড়ায় আছে প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় মূল *men- (চিন্তা করা)।

অক্ষর: এ কারণেই আমি ইংরেজি character বলতে হরফ লিখি, syllable বলতে অক্ষর। অন্য কিছু ভেবে পেলে জানাব। আপনি যদি সুরাহা করতে পারেন জানাবেন। ভাল থাকবেন।

aR said...

আপনার ব্লগটি সত্যি অনেক তথ্যবহুল। জানার আছে অনেক কিছু। কিন্তু কোন তথ্যের কোন রেফারেন্স নেই। বিষয়টি দৃষ্টিকটু লাগে। আমাদের মত নাদানরা ভুল করতে পারি। কিন্তু আপনিও কি আমাদের মতো?

akkas said...

জনাব, ছোটহাতের এ-বড় হাতের আর, আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে বুঝতে সুবিধে হত। আর আপনার পরিচয়টা যদি পাওয়া যেতে তাহলে কথা কইতে সুবিধা হত। ধন্যবাদ॥