Tuesday, February 05, 2008

বাংলার নিজস্ব গণনাচিহ্ন

সাধারণ ভগ্নাংশ প্রকাশের জন্য বাংলার নিজস্ব চিহ্ন রয়েছে, কিংবা ছিল বলা যায়, যার ভিত্তি ষোল (১৬), ইংরেজিতে hexadecimal। তখন ষোল আনায় এক টাকা ছিল কি না? আগের দিনে শিশুবোধকে পাটীগণিত শেখাতে এইসব কড়াকিয়া বা পণকিয়া ব্যবহৃত হত। পুরনো দিনে লেখাপড়া শেখা লোকেদের দুই একজন নিয়মটা জেনে থাকলেও এখন হয়ত পরিবারের দৈনিক হিসেব নিকেশ করতে এর ব্যবহার আর করে না। ষোলর এক ভাগ থেকে শুরু হয়ে ষোলর পনের ভাগ, ষোল পূর্ণ হলে ১ (এক):

৴ ৵ ৶ ৷৹ ৷৴ ৷৵ ৷৶ ৷৷৹ ৷৷৴ ৷৷৵ ৷৷৶ ৸৹ ৸৴ ৸৵ ৸৶ ১.

পরের বার কেবল সামনে ১ বসবে, একত্রিশ পর্যন্ত, বত্রিশে ২.। (শেষেরটি দাঁড়ি, অঙ্কপাতনের অংশ নয়।) এভাবে চলতে থাকবে। আঠারশ' একান্ন সালে কলকাতায় ছাপানো জে মেন্ডিসের অভিধানে বাংলা চিহ্নের পরিচিতিতে এই ষোলটি সঙ্খ্যা দেওয়া আছে। ব্যাখ্যায় বলা আছে ষোল আনায় এক রুপি (টাকা), ষোল ছটাকে এক সের (ওজন) এবং ষোল পণে এক কাঠা (জমি)। কোনও কোনও পুরনো বইয়ে প্রতিটি সঙ্খ্যার শেষে ৹ লেখা দেখতে পাওয়া যায়, চার, আট এবং বার ছাড়া, কারণ সেখানে এমনিতে একটি অন্ত্য ৹ বিদ্যমান।

তত পুরনো নয় এমন বাংলা বইয়েও, সে অঙ্কেরই হোক বা সাহিত্যের, এই অঙ্কপাতনের ব্যবহার দেখা যায়। বিলেতি বইয়ের একটি নিয়ম হল পৃষ্ঠার নম্বর সঙ্খ্যায় ছাপা হওয়া শুরু হয় বইয়ের মূল পাঠ্যাংশ থেকে, যাকে ইংরজিতে main matter বলে। ইংরেজিতে যা front matter সেগুলোর মধ্যে প্রাথমিক বা অর্ধ নামপত্র বা আখ্যাপত্র থেকে ভূমিকা পর্যন্ত পাতা গণনা করা হলেও তাতে কোন পৃষ্ঠাঙ্ক থাকে না। এই ভূমিকা বা মুখবন্ধ থেকে মূল পাঠ্যাংশের আগের পৃষ্ঠাগুলোতে সাধারণত রোমক অঙ্কে পৃষ্ঠাঙ্ক দেওয়া হয়। বাংলায় এই ক্ষেত্রে এই পুরনো ষোল-ভিত্তির অঙ্কপাতনের ব্যবহার দেখা যায়। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণে এমনটিই আছে। তবে অনেকেই এখন বন্ধনীর মধ্যে বা বানান করে পৃষ্ঠাঙ্ক দিয়ে থাকে।

2 comments:

সুশান্ত বর্মন said...

ভাল লাগল। ইন্টারনেটে থাকার কারণে নতুন প্রজন্ম যদি অন্তত সংখ্যাবাচক পুরনো শব্দগুলোকে চেনে তাও লাভ।

সত্যশ্রী উকিল said...

লেখাটি খুব ভালো লেগেছে। ১৯৪৪ সালের পারিবারিক বুদির দোকানের খাতাটি এবার বুঝতে পারবো পড়ে। আমার সবিশেষ ধন্যবাদ গ্রণ করুন ভাই।