Thursday, July 31, 2008

হাঁটু-ভাঙ্গা দ আর পেট-কাটা মূর্ধন্য ষ

এলাকাভেদে বর্ণমালার পঠনও ভিন্ন। অনেকে বাচ্চাদের মনে রাখার সুবিধার জন্য দ না ব'লে বলে হাঁটু-ভাঙ্গা দ কিংবা মূর্ধন্য ষ না ব'লে বলে পেট-কাটা মুর্ধন্য ষ। ক-এ ষ যুক্ত অনেক জায়গায় পুরনো রীতি অনুযায়ী ক্ষিয়; অনেকের কাছে ঙ হল উম্অ আর ঞ হল নিয়্অ। তবে বাংলার বর্ণমালার স্বরবর্ণের প্রথম দুই হরফের নাম নিয়ে বেশ মতভেদ আছে। সাধারণ ভাবে এগুলো স্বরে অ বা স্বরে আ; অন্তত ছোটদের তাই শেখানো হয়। ফারসি বা উর্দুর নিয়মে স্বর-এ-অ আ স্বর-এ-আ কিন্তু নয়। তাই ধারণা করা হয় ‘স্বরের অ’ এবং ‘স্বরের আ’-র বিকৃত রূপ স্বরে অ এবং আ। কেবল অ এবং আ বললেই চলে যদিও।

স্বর হরফ সাথে উচ্চারণ: অ বা স্বরের অ (/ɔ/ বা /ʃɔrer ɔ/); আ বা স্বরের আ (/ɑ/ বা /ʃɔrer ɑ/); হ্রস্ব ই (/rɔʃːo i/); দীর্ঘ ঈ (/dirgʱo i/); হ্রস্ব উ (/rɔʃːo u/); দীর্ঘ ঊ (/dirgʱo u/); ঋ (/ri/); ঌ (/li/); এ (/e/); ঐ (/oi/); ও (/o/); এবং ঔ (/ou/)। আর ব্যঞ্জন হরফ: ক (/kɔ/); খ (/kʰɔ/); গ (/gɔ/); ঘ (/gʱɔ/); ঙ (/uɔ̃/ বা /ũɔ̃/); চ (/tʃɔ/); ছ (/tʃʰɔ/); বর্গীয় বা বর্গ্য জ (/borgio/ বা /bɔrgo dʒɔ/); ঝ (/dʒʱɔ/); ঞ (/iɔ̃/ বা /ɪ̃ɔ̃/); ট (/ʈɔ/); ঠ (/ʈʰɔ/); ড (/ɖɔ/); ঢ (/ɖʱɔ/); মূর্ধন্য ণ (/murd̪ʱonːo nɔ/); ত (/t̪ɔ/); থ (/t̪ʰɔ/); দ (/d̪ɔ/); ধ (/d̪ʱɔ/); দন্ত্য ন (/d̪ɔnt̪o nɔ/); প (/pɔ/); ফ (/pʰɔ/); বর্গীয় বা বর্গ্য ব (/borgio/ বা /bɔrgo bɔ/); ভ (/bʱɔ/); ম (/mɔ/); অন্তঃস্থ য (/ ɔnt̪ɔst̪ʰo dʒɔ/); র (/rɔ/); ল (/lɔ/); তালব্য শ (/t̪ɑlobːo ʃɔ/); মূর্ধন্য ষ (/murd̪ʱonːo ʃɔ/); দন্ত্য স (/d̪ɔnt̪o ʃɔ/); হ (/ɦɔ/); ড-এ শূন্য বা বিন্দু ড় (/ɖɔ-e ʃunːo/ বা /bind̪u ɽɔ/); ঢ-এ শূন্য বা বিন্দু ঢ় (/ɖʱɔ-e ʃunːo/ বা /bind̪u ɽʱɔ/); অন্তঃস্থ য় (/ɔnt̪ɔst̪ʰo ɔ/); খণ্ড ত (/kʰɔnɖo tɔ/); ং-অনু্স্বার (/onuʃːɑr/); ঃ-বিসর্গ (/biʃɔrgo/); এবং ঁ-চন্দ্রবিন্দু (/tʃɔnd̪robind̪u/)।

অনেকে আবার ড় থেকে পৃথক করার জন্য র কে ব-এ শূন্য বা বিন্দু র বলে। স্বরের বর্ণাশ্রয়ী চিহ্নগুলোকে কার বলা হয়, যেমন, আ-কার, হ্রস্ব ই-কার, ইত্যাদি। বর্ণপূর্ব বর্ণাশ্রয়ী র-কে রেফ এবং আরও বেশ কিছু উত্তর-বর্ণাশ্রয়ী ব্যঞ্জনের নাম ফলা, যেমন, ন-ফলা, ল-ফলা, ব-ফলা, ইত্যাদি। ক-এ ষ যুক্ত হরফের নাম যুক্ত খ। বঙ্গহরফে সংস্কুত লিখতে গেলে আধা মাত্রার হ-এর মত দেখতে একটি হরফের ব্যবহার করতে হয়, ঽ। হরফটির দেখা মেলে পুরনো সাধু বাংলায়ও, যেমন ততোঽধিক। এর নাম অবগ্রহ, হরফের নিজস্ব কোনও উচ্চারণ নেই, কেবন সন্ধিজাত শব্দাদ্য অ-এর লোপ নির্দেশ করে।

3 comments:

সুশান্ত বর্মন said...

প্রয়োজনীয় তথ্য। অনেক অজানা তথ্য জানলাম। আচ্ছা, বিভিন্ন phonetic symbols গুলো লিখেছেন কিভাবে তা জানাবেন কি?

akkas said...

যখন বেশি পরিমাণে উচ্চারণ লিখতে হয় তখন SAMPA নামের এক নিয়মে ASCII ব্যবহার করে লিখে নিয়ে, নিজের লেখা একটি ছোট পার্সারের মাঝ দিয়ে চালালে ইউনিকোডের হেক্সাডেসিমাল নম্বর পেয়ে যাই। আর কয়েকটি হরফের প্রয়োজন পড়লে আমারই কোনও লেখা থেকে কপি করে নেই। এই ব্লগেই তেমন একটি পোস্টিং আছে।

अजित वडनेरकर said...

প্রিয মিট্র্,
আজ্ আপক যহ্ প্রযাস্ ডএখা.মুঝএ খুশিই হঐ কি আপ্ কও শব্ডওন্ কা সfঅর্ কর্ন পসন্ড্ হঐ.কভি টিপ্পনি ভিই কিজিযএ.
দন্য্বাড্
অজিট্
মঐন্ বন্গ্ল নহিন্ জান্ট, বস্ যুন্ হিই টহল্ কর্ জা রহা হূন্.